মাথায় আঘাতে করণীয় 

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে

মাথায় আঘাত পাওয়ার পর মাথাব্যথা, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত আসা, চোখের চারপাশে কালো রং হওয়া, অচেতন হওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ, খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা

মাথায় অল্প আঘাত পেলে সাধারণত কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি আঘাতের পর বমি, খিঁচুনি হয় বা রোগী অচেতন হয়ে যায়, তবে দ্রুততম সময়ে মাথার সিটি স্ক্যান করাতে হবে। মস্তিষ্কে বা মস্তিষ্কের আবরণের নিচে রক্তক্ষরণ হলে তা শনাক্ত করা যাবে।

করণীয়

কেউ মাথায় আঘাত পেলে অল্পতেই অস্থির হয়ে যাবেন না। প্রথমেই দেখতে হবে, রোগী ঠিকমতো শ্বাস নিচ্ছে কি না। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে নাক ও মুখ প্রথমে পরিষ্কার করতে হবে; তারপর মুখ রোগীর মুখের সঙ্গে লাগিয়ে শ্বাস দিতে হবে। নাড়ির গতি যদি না থাকে, তাহলে বুকে চাপ ও মুখে শ্বাস একসঙ্গে দিতে হবে। মাথার কোনো স্থানে কেটে গেলে তা পরিষ্কার করে ভালো করে চেপে ধরতে হবে। কিন্তু যদি খুলির কিছু অংশ ভেঙে যায়, তাহলে জোরে চাপ দেওয়া যাবে না। অনেক সময় মাথায় আঘাতের কারণে কোনো জায়গা ফুলে গেলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বরফের সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। যাদের মাথায় আঘাতের পর বমি হতে থাকে, তাদের বাঁ কাত করে রাখতে হবে; না হলে বমি শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে। মাথায় আঘাতের সঙ্গে অনেক সময় ঘাড়েও আঘাত থাকতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীদের নড়াচড়া করার সময় যাতে ঘাড়ে আঘাত না পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মাথায় আঘাত পেলে রোগীর বমি করার প্রবণতা থাকে; তাই প্রথমে মুখে কোনো খাবার না দেওয়াই ভালো। অনেক সময় এ ধরনের রোগীদের খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়াসহ জটিল সমস্যা থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেরি না করে রোগীকে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

আঘাতের পর অনেক সময় মাথার হাড় ভেঙে যাওয়া, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন
হতে পারে।

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *