বিভ্রান্তিকর সংবাদ ও অপপ্রচার: দেশবাসীর সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরলো মাস্তুল ফাউন্ডেশন

ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৬: সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক The Daily Sun-এ (৬ ও ৭ মার্চ) ও ডেইলি সানকে কপি করে অনলাইন পোর্টাল “চট্রগ্রাম প্রতিদিনে” মাস্তুল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, উক্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্য ও অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং যথাযথ তথ্যসূত্রবিহীন, যা মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আজ ২২ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে মাস্তুল ফাউন্ডেশন তাদের দাপ্তরিক অবস্থান, প্রমাণাদিসহ প্রকৃত তথ্য দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করে।

তারা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে স্বচ্ছতা ও সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’। আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম সরকারি বিধিমালা এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আইন মেনে পরিচালিত হয়। ডেইলি সানের প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভ্রান্তিকর অভিযোগের বিপরীতে আমাদের দাপ্তরিক অবস্থান নিম্নরূপ:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর নিয়মিত অডিট রিপোর্ট শেয়ার করছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে বিশেষ এসআরও সনদ প্রাপ্ত হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত যে কোনো দান বা যাকাত দাতার জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল মানবিক কাজও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (MRA) কর্তৃক নিবন্ধিত: আমাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কার্যক্রম কোনো অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি সরকারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এমআরএ (সনদ নং: ২০২১০০১৪৮৩) থেকে নিবন্ধিত এবং তাদের কঠোর নিয়মাবলীর অধীনে পরিচালিত। প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণহীন সমাজ গড়তে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই “‘ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’। অর্থ মন্ত্রণালয়ের (MRA) অনুমোদনপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলো ‘কর্জ-এ-হাসানা’ বা সুদমুক্ত ঋণ। এর মাধ্যমে অসচ্ছল ও পরিশ্রমী মানুষদের ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে। সাময়িক সহায়তা নয়, বরং মানুষকে কর্মক্ষম করে দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্য বিমোচনই মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য।

​স্বতন্ত্র আর্থিক কাঠামো: যাকাত তহবিল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কার্যক্রম—এই দুটির প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো সম্পূর্ণ পৃথক। যাকাতের অর্থ শরীয়াহ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়, অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দুটি ফান্ডের মধ্যে কোনো অর্থ মিশ্রণের সুযোগ নেই। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ‘যাকাত তহবিল’ এবং ‘ইসলামিক ফাইন্যান্স’ কার্যক্রম দুটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোতে পরিচালিত হয়। যাকাতের অর্থ কেবল শরীয়াহ নির্ধারিত খাতে (এতিমখানা, মাদ্রসা, বৃদ্ধাশ্রম, মেহমানখানা, যাকাত স্বাবলম্বী প্রকল্পে) ব্যয় হয়।

​স্বচ্ছতা ও অডিট: প্রতিবছর স্বনামধন্য নিরপেক্ষ অডিট ফার্ম দ্বারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়। বাৎসরিক অডিট সকল দাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্যদের সাথে শেয়ার করা হয়। এবং অডিট রিপোর্ট গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করা হয়।

​আন্তর্জাতিক কার্যক্রম: ফিলিস্তিনে গাজায় ও সুদানে প্রেরিত মানবিক সহায়তার প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা বিদ্যমান ‘সরকারের সকল বিধি ও নীতিমালা’ কঠোরভাবে অনুসরণ করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমরা সকল তথ্য অবহিত করেছি। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দূতাবাস (Embassy) থেকে আমাদের কাছে অফিসিয়াল ‘মানি রিসিট’ সংরক্ষিত আছে।

​পরিচালনা পর্ষদ: আমাদের পরিচালনা পরিষদ ‘রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক’ (RJSC) কর্তৃক সোসাইটিতে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত। জয়েন্ট স্টকে জমা দেওয়া আমাদের নিবন্ধিত নথিপত্রে পর্ষদের সকল সদস্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তাদের পদবী এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আইনগতভাবে যোগ্য যে কেউ পর্ষদে থাকতে পারেন। যদি পর্ষদের গঠন RJSC কর্তৃক স্বীকৃত হয়, তবে তাকে ‘ফ্যামিলি ডমিন্যান্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করা আইনত ভিত্তিহীন। পর্ষদে থাকা প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এবং সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও আমাদের অবস্থান:

দুঃখজনকভাবে, সংবাদ প্রকাশের আগে ডেইলি সানের প্রতিবেদক মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধির বক্তব্য গ্রহণের প্রয়োজন মনে করেননি, যা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী।

​আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, ডেইলি সান-এর প্রতিবেদনে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে,যা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এখানে আর্থিক বা প্রশাসনিক অনিয়মের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধির বক্তব্য না নিয়েই একপাক্ষিকভাবে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিনিধি চাইলেই আমাদের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারেন এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ডেইলি সানের সংবাদকর্মী আমিনুল, রাশেদুল ও শামিম আমাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বিভিন্নভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের ইঙ্গিত দেন, যা আমাদের কাছে অপ্রীতিকর ও হুমকিস্বরূপ মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ডেইলি সানের কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা সংবাদ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তাদের অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের সাথে দেখা করেননি এবং কথা বলেননি। সংবাদ প্রকাশের পরবর্তীতে আমরা লিখিত অভিযোগপত্র তাদের অফিসে জমা দিয়েছি, তবুও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং আমাদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগও করেনি।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কিছু গণমাধ্যম তাদের প্রচারিত মিথ্যা সংবাদের রেফারেন্স ধরে অন-ক্যামেরা বক্তব্য নিতে সরাসরি অফিসে চলে আসছে এবং আমাদের নানাভাবে মানসিক চাপে রাখছে। যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে এবং আমাদের চলমান মানবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এ ধরনের ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ বাংলাদেশের দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত ধারা ৪৯৯ ও ৫০০-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রয়োজনে আমরা প্রচলিত আইনের অধীনে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

একটি প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপপ্রচার শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানেরই ক্ষতি করছে না, বরং এর সাথে জড়িত হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং অসহায় মানুষের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আমরা আশা করি, ডেইলি সান কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে অবিলম্বে এই মিথ্যা সংবাদ প্রত্যাহার করবে এবং সত্য প্রকাশে সচেষ্ট হবে। আমরা দেশবাসীকে এবং আমাদের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই ধরণের বিভ্রান্তিকর সংবাদে কান না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। মাস্তুল ফাউন্ডেশন আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অবিচল থাকবে।

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *